ছাত্র অসন্তোষ রচনা – Student Dissatisfaction Essay in Bengali

0
239

ছাত্র অসন্তোষ রচনা – Student Dissatisfaction Essay in Bengali : সময়ে সময়ে দেশের কোনো না কোনো রাজ্যে ছাত্রছাত্রীদের রাস্তায় আন্দোলন করতে দেখা যায়, রেলপথ বন্ধ করে দেওয়াটা সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বছরের পর বছর ধরে, রেলওয়ে এনটিপিসি এবং আরইইটি শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্স কয়েক মাস ধরে চলেছিল। প্রতিবারই এই অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে কোথাও না কোথাও সরকারি নিয়োগের আয়োজনে অস্বচ্ছ পদ্ধতিতে, কাগজে কলমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলা।

ছাত্র অসন্তোষ রচনা – Student Dissatisfaction Essay in Bengali

Student Dissatisfaction Essay in Bengali

শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ মানেই বর্তমান শিক্ষা ও শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা অসন্তুষ্ট। কোন কোর্সের ক্রম নিয়ে ছাত্রদের এই অসন্তোষ থাকতে পারে। কোন কোর্স সম্পর্কে হতে পারে. অথবা এটা পরীক্ষার মানদণ্ড সম্পর্কে হতে পারে।

আমরা অনেক সময় দেখি যে একজন শিক্ষার্থী তার পছন্দের কোর্স বা ইনস্টিটিউটে ভর্তি না হওয়ার কারণে অসন্তোষ বোধ করে। এমতাবস্থায় রাষ্ট্রীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে বাধ্য হচ্ছে।

ছাত্র অসন্তোষ কি?

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেশি টাকা নেওয়া হয়। ধনী পরিবারের ছেলেমেয়েরা বেশি ফি দিয়ে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাদের পছন্দের কোর্সে ভর্তি হতে পারলেও দরিদ্র ছাত্রদের অর্থের অভাবে পড়ালেখা ছেড়ে দেওয়া বা ঐতিহ্যবাহী সস্তা কোর্সে ভর্তি হওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। এ অবস্থায় তাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষার প্রতি অসন্তোষের অনুভূতি জাগে। এবং সে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে অভিশাপ দিতে থাকে।

একজন ছাত্রের মধ্যে এমন অসন্তোষ দেখা দিলে অন্য ছাত্ররা তাকে সমর্থন করতে থাকে। এই পরিস্থিতি খুবই কঠিন। যাইহোক, তথ্য প্রযুক্তির এই উন্নত যুগেও, বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রত্যাশিত ব্যবস্থা ভারতে এখন পর্যন্ত হয়নি। ঐতিহ্যগত শিক্ষা এবং উচ্চ ডিগ্রী অর্জনের পরও বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই বিশেষ কোনো কাজ করতে সক্ষম হয় না।

এ কারণে শিক্ষিত বেকারত্বের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ভারতে প্রতি বছর পাঁচ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষা লাভ করে। তাদের অধিকাংশই যোগ্য প্রকৌশলী নন। এ কারণে তারা ডিগ্রি অনুযায়ী চাকরি পাচ্ছেন না। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের অসন্তুষ্ট হওয়াটাই স্বাভাবিক।

ছাত্র অসন্তোষের কারণ ও সমাধন

শিক্ষার বেসরকারীকরণের ফলে উচ্চ শিক্ষা প্রদানকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যা দেখা দিয়েছে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অনেক শোষণ করা হচ্ছে। এখানে শিক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সম্পদের অভাব রয়েছে। ছাত্ররা প্রতিবাদ করলে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারী ব্যবসায়ীদের শীর্ষে প্রবেশাধিকার রয়েছে। তাই তাদের অভিযোগেও কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। তাই হতাশ হয়ে ভাগ্যকে অভিশাপ দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই শিক্ষার্থীদের।

এমনকি রাষ্ট্রীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শিক্ষক-কর্মচারীদের স্বেচ্ছাচারিতার শিকার হতে হয় শিক্ষার্থীদের। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের দাবি আদায়ের জন্য ধর্মঘটে যাচ্ছেন। এতে শুধু লেখাপড়াই ব্যাহত হয় না, শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময়ও নষ্ট হয়। প্রতিবাদ করলে বা বয়কট করলে ব্যর্থ হওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের অসন্তোষের কারণ হয়।

শিক্ষা একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া, তাই সমাজ ও দেশের কল্যাণে এর উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কারণ সময় অনুযায়ী সমাজ ও দেশে পরিবর্তন আসে। তাই সময় অনুযায়ী শিক্ষার উদ্দেশ্যও পরিবর্তিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, বৈদিক যুগে বেদ মন্ত্রের শিক্ষা যথেষ্ট বলা হয়েছিল, কিন্তু বর্তমান সময়ে মানুষের বিকাশের জন্য বৃত্তিমূলক শিক্ষার উপর জোর দেওয়া উচিত।

গত কয়েক বছরে দেশে বৃত্তিমূলক শিক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রগতি দেখা গেলেও তা এখনও পর্যাপ্ত নয়। এ কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে গতানুগতিক কোর্সে ভর্তি হচ্ছেন। এই কোর্সগুলো বর্তমান সময়ের চাহিদা অনুযায়ী নয়। তাই এ ধরনের কোর্সের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার শিক্ষার্থীদের সামনে ভবিষ্যতে চাকরি পাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। তাই এমন শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি তাদের আস্থা হারানোটাই স্বাভাবিক।

কিছু স্বার্থপর রাজনৈতিক দল ছাত্রদের সাথে মিশে তাদের পেঁচা সোজা করতে ব্যস্ত। এজন্য তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনীতি প্রচার করে। এ কারণে দেশের নামকরা কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক অঙ্গনে রূপ নিচ্ছে, এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে, এ অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও লেখাপড়া নিয়ে অসন্তোষের সৃষ্টি হচ্ছে।

ছাত্র অসন্তোষের কারণ

এভাবে বেকারত্বের ভয়, ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা বর্তমান সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে না থাকা, বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রদানকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাচারিতা প্রভৃতি ভারতে শিক্ষার্থীরা। অসন্তুষ্টির কারণ।

শিক্ষার্থীরা দেশের ভবিষ্যৎ, তারা যদি উপকৃত না হয়, তারা যদি বেকারত্বের কবলে পড়ে, তাদের ওপর যদি অবিচার করা হয়, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যদি খেলা করা হয়, তাহলে দেশ ভালো হবে কী করে। নিঃসন্দেহে এর ফলে শুধু অর্থনৈতিক নয়, দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক অগ্রগতিতেও বিরূপ প্রভাব পড়বে। তাই সময়মতো এই সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ দূর করতে হলে সবার আগে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি ঘটিয়ে বর্তমান সময়ের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে, এর জন্য বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রদানকারী পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। এ ছাড়া শিক্ষা থেকে রাজনীতিকে দূরে রাখতে হবে এবং এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা যেন নিজেদের শর্তে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট না করে তা নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়া এ ধরনের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেখানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অতিরিক্ত শোষণ করা হচ্ছে, তাদের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে শোষণের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। এজন্য শিক্ষকদের তাদের কর্তব্য উপলব্ধি করতে হবে। এসবের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের গঠনমূলক কাজের দিকে ঝুঁকিয়ে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষও অনেকাংশে কমিয়ে আনা যায়।

উপসংহার

আশা করি ছাত্র অসন্তোষ রচনা – Student Dissatisfaction Essay in Bengali এই নিবন্ধটি আপনার পছন্দ হয়েছে, যদি আপনি এই তথ্যগুলি পছন্দ করেন তবে আপনার বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here